নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালাখাল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিষয়টি তদন্ত শুরু করলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে তোড়জোড় শুরু করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।
স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি মানছেন না জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশনাও। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) স্কুলটিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পালাখাল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষানুরাগী সদস্য মো. হাবিবুর রহমান গত ১৬ নভেম্বর জেলা শিক্ষা অফিসারকে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তাতে তিনি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাই না করেই বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমানের অভিযোগ আমলে নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসের গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুল আলম ভূইয়াকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেন শিক্ষা অফিসার। বুধবার (২২ নভেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তা স্কুলে গিয়ে সবপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। বিকেল পর্যন্ত তিনি ওই স্কুলেই অবস্থান করেন।
তদন্তের বিষয়ে কোনো লিখিত প্রতিবেদন তিনি জেলা শিক্ষা অফিসারকে এখনো দেননি। অথচ বৃহস্পতিবার স্কুলের পূর্বঘোষিত মৌখিক পরীক্ষার সূচি বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হতেই নামমাত্র মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করে নিয়োগ সম্পন্নের তোড়জোড় করছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইমাম হোসেন।
ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও সেটা কেউ জানেন না। কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে গোপনে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আমি জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর বিস্তারিত উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সেটা তদন্তে আজ একজন কর্মকর্তা এসেছিলেন। তিনি কোনো প্রতিবেদন দেননি। অথচ পরীক্ষা স্থগিত না করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে তোড়জোড় করা হচ্ছে। দুর্নীতির মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাই না করেই পছন্দের লোককে নিয়োগ দিতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তড়িঘড়ি করছেন।’

তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুল আলম ভূইয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেখুন— অভিযোগ উঠেছে। সেখানে আমি গিয়ে কথা বলেছি। যে তথ্য পেয়েছি, সেটা প্রতিবেদন আকারে শিক্ষা অফিসারকে দেবো। নিয়োগ পরীক্ষা কবে হবে বা তা স্থগিত করা হবে কি না, সেসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রাণকৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, ‘ওখানে দু’পক্ষ। একজন বর্তমান চেয়ারম্যান। আরেকজন সাবেক চেয়ারম্যান। তাদের দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা। আমি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে বলেছিলাম। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমার কথা শোনেননি। এখন আমার কি করার আছে বলুন?
অভিযোগ বিষয়ে জানতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইমাম হোসেনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি নামাজে আছি। নামাজ শেষে আপনার সঙ্গে কথা বলবো।’ তবে এর এক ঘণ্টার পর থেকে কয়েক দফা তার নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এসএমএস পাঠানো হলেও কোনো প্রতিউত্তর মেলেনি।










