মামলা নং ৩৮: মারধর, টাকা ছিনতাই ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ; আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ
গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কুনিয়া পাছর এলাকায় মো. মিলন চৌধুরী নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টা, মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যুবদল নেতা পরিচয়দানকারী রাব্বি চৌধুরীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৩৮।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মিলন চৌধুরীর অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁর ওপর এ হামলা চালানো হয়। গাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর রাতে মিলন চৌধুরী নিজ বাসা থেকে ‘চৌধুরী মার্কেট’-এর উদ্দেশে রওনা হন। পথে আগে থেকে ওত পেতে থাকা অভিযুক্তরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর গতিরোধ করেন এবং অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় তাঁর মাথা, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। একপর্যায়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় মিলন চৌধুরীর কাছে থাকা নগদ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁর বাসভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
পূর্ববিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ
ভুক্তভোগীর দাবি, ব্যক্তিগত ও পূর্ববিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে এবং সেগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—রাব্বি চৌধুরী, মো. তানভীর, মো. ফয়সাল, মো. রানা, মো. রাকিব, মো. লিওন, মো. সিয়াম, মো. মাসুদ, মো. তুষার ও মো. পলাশ। তাঁদের মধ্যে রাব্বি চৌধুরী যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগকারীর দাবি। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাব্বি চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।









