নিউজ সান ডেস্ক : যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানিকৃত কোয়ার্টজ পাউডারের চালানের আড়ালে ঘোষণা বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ ভায়াগ্রা জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পণ্যাগারে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, জব্দ হওয়া ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার চালানটি বর্তমানে বন্দরের ৩২ নম্বর পণ্যাগারের শেডে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
গত ১ জুলাই বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অতল গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অবৈধভাবে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বন্দর কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, কাস্টমসের অনুরোধ পাওয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট পণ্যাগারগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফা এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ৩৪ নম্বর শেডে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা আরেকটি ভায়াগ্রা সন্দেহভাজন চালানের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ আরাফাত এন্টারপ্রাইজ নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কোয়ার্টজ পাউডার ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে ১৬ টন পণ্য আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল হায়দার অ্যান্ড সন্স নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান। তবে সন্দেহের ভিত্তিতে নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হলে ওই চালানে ১৩ ধরনের রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রা পাওয়া যায়।
এর আগে ২০১৯ সালের ২৬ মে বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ সোডিয়াম গ্লাইকুলেট ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে ১০০ ড্রামে ২ হাজার ৭০০ কেজি পাউডারজাতীয় রাসায়নিক আমদানি করেছিল। শাইনিং শিপিং সার্ভিসেসের মাধ্যমে খালাসের জন্য আনা সেই চালানও পরীক্ষায় ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত হয়। চালানটি এখনো বন্দরের ৩৪ নম্বর শেডে সংরক্ষিত রয়েছে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, এ ধরনের নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর পণ্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ডের কারণে সৎ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ফলে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন, কেউ কেউ বিকল্প বন্দর ব্যবহার করছেন।
এদিকে বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল ও অসাধু চক্রের যোগসাজশে বন্দর ও কাস্টমসের পণ্যাগার থেকে বিভিন্ন সময়ে পণ্য পাচারের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি প্রায় ১৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে কাস্টমস, বন্দর, নিরাপত্তাকর্মী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আধুনিক ডিজিটাল স্ক্যানিং ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে নিষিদ্ধ ও ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানির ঘটনা রোধে আরও কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।










