খুলনা ব্যুরো:
খুলনার তেরখাদায় পুলিশের অভিযানে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ৩ হাজার ১০৫ টাকাসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাঁদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া জোড়া হত্যা মামলাতেও আসামি ছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর২০২৬) রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার ৫ নম্বর তেরখাদা ইউনিয়নের আদমপুর এলাকায় এ অভিযান চালায় পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আদমপুর গ্রামের মৃত হেকমত মোল্যার ছেলে মুজিব মোল্যা (৩৭) এবং নড়াইলের নড়াগাতী থানার মুলশ্রী গ্রামের সাজ্জাদ ভূঁইয়ার ছেলে মেহেদী ভূঁইয়া (২০)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে তেরখাদা থানার এসআই নূর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল আদমপুর গ্রামের লতিফ মোল্যার পাকা ভবনের পেছনে মাটির রাস্তার ওপর অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ
সময় পুলিশ মুজিব মোল্যা ও মেহেদী ভূঁইয়াকে আটক করে।
পরে তাঁদের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ৩ হাজার ১০৫ টাকা উদ্ধার করা হয়।
রাত ১১টা ১০ মিনিটে জব্দ তালিকা তৈরি করে এসব আলামত জব্দ করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন নিজেদের হেফাজতে ইয়াবা রেখে বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মুজিব মোল্যার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি ও এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া জোড়া হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় তিনি আসামি ছিলেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, মেহেদী ভূঁইয়া তাঁর আপন ফুফুর রিকশা ভাড়ায় চালাতেন।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তিনি ফুফুর রিকশাটি বিক্রি করে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তেরখাদা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ আলী বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির টাকাসহ দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’









