শহিদুল ইসলাম শহীদের নেতৃত্বে হাজারো মানুষের মোটরসাইকেল শোডাউনে স্বাগত; কাস্টমসে স্বচ্ছতা-গতিশীলতার তাগিদ, পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
শাহাবুদ্দিন আহামেদ, বেনাপোল:
বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও গতিশীল করতে কাস্টমস ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদুল ইসলাম।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে শার্শা উপজেলায় পৌঁছালে শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম শহীদের নেতৃত্বে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে শেখ ফরিদুল ইসলামকে স্বাগত জানানো হয়।
এ সময় নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলেন সড়কপথ। পরে আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন ও আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম শহীদের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানানো হয়।
কাস্টমসে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতার তাগিদ
এরপর বিকেল ৪টার দিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ‘ইছামতি’ সম্মেলন কক্ষে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শেখ ফরিদুল ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। তাই ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের যেন অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়তে না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, দ্রুত পণ্য খালাসের পাশাপাশি কাস্টমসের নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এতে একদিকে ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়ও সুরক্ষিত থাকবে।
শেখ ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, কাস্টমস ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। বৈধ বাণিজ্যকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি চোরাচালান ও অনিয়ম প্রতিরোধেও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে, আবার রাষ্ট্রের রাজস্বের স্বার্থও নিশ্চিত করতে হবে। আইন ও বিধিবিধান মেনে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়াই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।”
মতবিনিময় সভায় বেনাপোল কাস্টমসের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের বর্তমান পরিস্থিতি, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া এবং কাস্টমস ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
কাস্টমস হাউসে মতবিনিময় সভা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল পৌর গেটে বেনাপোল পৌর বিএনপির আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও পথসভায় অংশ নেন শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এ সময় তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং পথসভায় বক্তব্য দেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কর্মসূচিতে পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন যারা,বেনাপোল পৌর বিএনপির আয়োজিত কর্মসূচিতে যশোর-১ ও যশোর-২ আসনের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নী, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম বাবু, বেনাপোল পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত, সহসভাপতি এ কে এম আতিকুজ্জামান সনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মেহের উল্লাহ,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ, আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান আক্তার, বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মফিজুর রহমান স্বজন, শার্শা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম ও সদস্যসচিব ইমদাদুল হক ইমদাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া নাভারণ সার্কেল (এসপি) মোঃ আরিফ হোসেন এবং বেনাপোল কাস্টমস হাউসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
একই দিনে বেনাপোলে পৃথক দুটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বাণিজ্য সহজ করতে কাস্টমসে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠান শেষ করে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার সময় শার্শা উপজেলার ৯বং উলাশী ইউনিয়ন এর জিয়া খাল খাল পরিদর্শন করেন।









