নিউজ সান ডেস্ক :
সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সাগর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম শহীদ এর বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি “সাগর হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে” বিভিন্ন মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তবে নিহত সাগরের পরিবার দাবি করেছে, তাদের ছেলের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি তাদের ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ ভাটিয়ালী গ্রামের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, “সাগর হোসেন কৃষি জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার পিতা প্রতিবন্ধী হওয়ায় কিছু ব্যক্তি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে। শহীদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
নিহত সাগরের পিতা-মাতাও জানান, কয়েকদিন আগে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের বাড়িতে এসে অনুদান ও একটি ইজিবাইক দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বলেন, শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদ এর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনতে হবে। কিন্তু তারা ওই ব্যক্তিদের বলেন, “আমাদের ছেলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, তাকে কেউ হত্যা করেনি। আমরা মিথ্যা কথা বলতে পারব না।” এরপরও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে তাদের একটি মানববন্ধনে অংশ নিতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি করেন তারা। বর্তমানে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিদের তারা চিনেন না এবং তাদের ছেলে সাগরের মৃত্যুর সাথে শহিদুল ইসলাম শহীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, “একটি রাজনৈতিক কুচক্রী মহল আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। একই সঙ্গে যারা গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে সাবেক কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহ নাসির উদ্দীনসহ দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার (২০ মে ২০২৬) দিনব্যাপী শার্শার বিভিন্ন এলাকায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তারা ৯নং উলাশী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরে বিকেলে শহিদুল ইসলাম শহীদের গ্রামের বাড়ি কন্যাদহ পরিদর্শন করেন।
সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা শহিদুল ইসলাম শহীদ সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গরিব, অসহায় ও দুঃখী মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করে আসছেন।
৯নং উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরাও জানান, বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন নাশকতার মামলায় শহিদুল ইসলাম শহীদ নিজের অর্থ ব্যয়ে অনেক নেতাকর্মীর জামিনের ব্যবস্থা করেছেন। তারা বলেন, “কেউ সাহায্যের জন্য গেলে শহিদ ভাই কাউকে খালি হাতে ফেরান না। অথচ একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এসব অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সচেতন মহলের দাবি, কোনো ঘটনার সঠিক তদন্ত ছাড়া কাউকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।









